শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৭৩২ বার দেখা
শেয়ার করুন

মোঃ মতিন বকশ: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর উদ্দেশ্য ছিল মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বাড়ানো। তবে বাস্তব প্রয়োগে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এই পদ্ধতি কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রায়ই শোনা যায়।

প্রধান সমস্যাগুলো

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি
অনেক শিক্ষকই সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পাননি। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, একটি মানসম্মত প্রশ্ন তৈরি করতে শিক্ষকদের অনেক সময় ও পরিশ্রম করতে হয়। অনেকেই স্বীকার করেন, গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

মানসম্মত প্রশ্ন প্রণয়নের অভাব
অনেক ক্ষেত্রে উদ্দীপক ও প্রশ্নের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণ না করে নির্দিষ্ট ধরনে উত্তর মুখস্থ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে সৃজনশীলতার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

গাইড ও কোচিং নির্ভরতা
সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর পর গাইড বই ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় মূল পাঠ্যবই না পড়ে প্রস্তুত উত্তর মুখস্থ করে।

মুখস্থ করার প্রবণতা
যেখানে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ হওয়ার কথা, সেখানে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে মুখস্থ বিদ্যাই প্রাধান্য পাচ্ছে।

করণীয়

শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ জরুরি—

শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ: নিয়মিত ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়নের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
প্রশ্নের মান যাচাই (Moderation): প্রশ্নপত্র প্রণয়নের পর তা যাচাই-বাছাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
কারিকুলাম সংস্কার: যুগোপযোগী ও সহজবোধ্য পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝে শিখতে পারে।
মূল বইভিত্তিক শিক্ষা: গাইড নির্ভরতা কমিয়ে পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রযুক্তির ব্যবহার: শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করে শিক্ষাকে আরও কার্যকর করা যেতে পারে।
কারিগরি শিক্ষা প্রসার: শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে।
নৈতিক শিক্ষা: জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।

উপসংহার

সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির উদ্দেশ্য ভালো হলেও এর বাস্তব প্রয়োগে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাই হঠাৎ করে কোনো পদ্ধতি বাতিল না করে, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কার করাই বেশি কার্যকর হতে পারে। একটি সহজ, বাস্তবমুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

লেখক পরিচিতি

মোঃ মতিন বকশ একজন সাংবাদিক ও সম্পাদক। তিনি শিক্ষা, সমাজ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। বর্তমানে তিনি ডেইলি জনপদ প্রতিদিনের সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী লেখক সাংবাদিক ফোরাম, মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন