শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৭৭০ বার দেখা
শেয়ার করুন

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের মৌলিক শিখনদক্ষতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে লার্নিং টয়েস বা শিখন উপকরণ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শিখনদক্ষতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রাথমিক স্তরের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা (Foundational Literacy and Numeracy—FLN) যাচাই করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী লক্ষ করেন, লার্নিং টয়েস ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন ধারণা ও বিষয় সহজে বুঝতে পারছে। শ্রেণিকক্ষে প্রচলিত পদ্ধতিতে যেসব বিষয় বোঝাতে কখনো বেশি সময় লাগে, খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণের মাধ্যমে সেগুলো তুলনামূলক সহজে আয়ত্ত করতে পারছে শিশুরা। এ ধরনের উপকরণ শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান পদ্ধতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখনদক্ষতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতার ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাই এবং শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লার্নিং টয়েসসহ কার্যকর শিখনপদ্ধতিগুলো কীভাবে আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে।

দক্ষ ও অভিজ্ঞ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামিক ভিডিও দেখুন : ভিক্ষুকের বদদোয়া কতটা ভয়ংকর? | নাসির উদ্দিন যুক্তিবাদী, গোপালগঞ্জ | E Bangla 71

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন