শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬৪৬ বার দেখা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬-এ সম্মাননা পেয়েছেন লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক আরিফ রহমান।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের উদ্যোগে এ সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশাল বিভাগের শতাধিক কবি, লেখক, গবেষক, বিশ্লেষক, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজন অংশ নেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হকসহ লেখক, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর। সঞ্চালনা করেন কবি পবিত্র মুখোপাধ্যায়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি নয়ন আহমেদ, কবি শাহীন চৌধুরী, কবি আল হাফিজ ও কবি আরিফ আহমেদ মুন্না। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কবি মুস্তফা হাবিব।

সাহিত্য সম্মেলনে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবন, কর্ম, স্মৃতি ও অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় অধ্যাপক মো. মোসলেম উদ্দিন শিকদারের লেখা ‘শেষ-ই-বাংলা: জীবন ও কর্ম’ এবং শেরেবাংলাকে নিয়ে প্রকাশিত ‘ছোটদের শেরেবাংলা’ বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি জামান মনির ও লেখক মাহমুদ ইউসুফ। যে কারণে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী! | E Bangla 71

অনুষ্ঠানে কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের হাতে শেরেবাংলা সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি কবি আবদুল হাই শিকদার। লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক হিসেবে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন আরিফ রহমান। তাঁর লেখা বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। এসব লেখা পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানান।

আয়োজকেরা বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশ এবং বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার প্রসারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মনীষীদের অবদান তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন বহু কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীর যোগাযোগ ছিল। সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের সামাজিক ভূমিকার গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করতেন। তাঁর সময়ে বাঙালি মুসলমান সমাজে যে নবজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাহিত্যচর্চা ও শিক্ষার বিস্তার পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে।

বিশেষ করে কাজী নজরুল ইসলামের মতো কবি ও সাহিত্যিকদের সঙ্গে শেরেবাংলার যোগাযোগ ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য। নজরুলের বিদ্রোহী সাহিত্য যেমন সামাজিক বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলেছিল, তেমনি ফজলুল হকের গণমুখী রাজনীতি সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে সামনে এনেছিল। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পরিবর্তে তিনি বাংলার মানুষের অভিন্ন স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে তাঁর সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালির সামগ্রিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

বাংলার ইতিহাসে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এক অনন্য ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন