শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং

সন্ত্রাসীর নামে শতকোটি টাকার জমি, প্রশাসন কি কিছুই জানত না?

১৫ ঘণ্টা আগে • Editing Section
৫৫৩ বার দেখা
শেয়ার করুন

এস এম মেহেদী হাসান

জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনা শুধু জমি রেজিস্ট্রির অনিয়ম নয়; এটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব, প্রশাসনের দায়িত্ব এবং আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রশাসন কোথায়? আইন কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য? একজন সাধারণ মানুষ জমির কাগজে সামান্য ভুল করলে তাঁকে দিনের পর দিন ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস কিংবা আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়। অথচ একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর নামে থাকা শতকোটি টাকার জমি মাত্র এক দিনে রেজিস্ট্রি হওয়ার খবর সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—প্রশাসন কি কিছুই জানত না? সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব কি শুধু কাগজে সই করা?

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিনের নামে থাকা ৬৫টি জমির দলিল মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রেজিস্ট্রি করেছেন সীতাকুণ্ডের সাবরেজিস্ট্রার রায়হান হাবীব। বাজারমূল্য অনুযায়ী এসব জমির দাম প্রায় ১০০ কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী বলা যায় না। সাবরেজিস্ট্রারের বক্তব্যও নিরপেক্ষ তদন্তে বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যেসব জমির মালিকানা নিয়ে সরকারি স্বার্থের অভিযোগ রয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা হত্যাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং যিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পলাতক হিসেবে পরিচিত, তাঁর নামে থাকা এত বিপুল সম্পত্তির দলিল এক দিনে কীভাবে রেজিস্ট্রি হলো? সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কি প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করেছিল? জীবনে বরকত আনার আমল | মুফতি আরিফ বিন হাবিব | E Bangla 71

এটি কোনো সাধারণ জমি কেনাবেচার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারি খাসজমির মালিকানা, ভূমি প্রশাসনের দায়িত্ব, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রভাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির প্রশ্ন।

জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রের উপস্থিতি কোথায়?

জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও ভূমি দখলের অভিযোগে আলোচিত। সংবাদে বলা হয়েছে, ইয়াসিন বাহিনী ও রুকন মেম্বারের প্রভাবের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকেন। সেখানে একাধিক উপদলও সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন হলো, একটি এলাকার সাধারণ মানুষ যদি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন, তাহলে সেই এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সেখানে কতটা কার্যকর?

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর মামলা করা নয়; অপরাধের পরিবেশ তৈরি হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা। কোনো এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করলে, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠলে এবং সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে না পারলে প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।

সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জানুয়ারি এক আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে র‌্যাবের কর্মকর্তা নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় ইয়াসিনসহ তাঁর বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। অন্যদিকে, গত ২৪ মে গভীর রাতে রাস্তা কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে সংবাদে বলা হয়েছে। এসব ঘটনা জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর চিত্র তুলে ধরে।

একজন র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত হলেন, যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা হলো, বহু মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হলো—তারপরও প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসিন অধরা থাকার খবর সামনে এসেছে। এর মধ্যে তাঁর নামে থাকা বিপুল সম্পত্তি বিক্রির দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভূমি প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় কোথায়? একজন গুরুতর মামলার আসামির সম্পত্তি নিয়ে এমন ঘটনা ঘটার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে কোনো তথ্য ছিল না?

খাসজমি ব্যক্তির সম্পত্তি হলো কীভাবে?

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জমির মালিকানা। সংবাদে বলা হয়েছে, ইয়াসিন জঙ্গল সলিমপুরের বিপুল পরিমাণ সরকারি খাসজমি বিভিন্ন কৌশলে নিজের নামে বিএস রেকর্ড করিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব জমি পরে বিক্রির চেষ্টা চলছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি। সরকারি খাসজমি কীভাবে ব্যক্তির নামে রেকর্ড হলো? কোন নথির ভিত্তিতে নামজারি করা হয়েছিল? ভূমি অফিসের কোন কর্মকর্তা এসব কাগজপত্র যাচাই করেছেন? জমির খাজনা পরিশোধ করা থাকলেই কি জমির মালিকানা বৈধ হয়ে যায়? সরকারি জমি ভুলভাবে ব্যক্তির নামে রেকর্ড হয়ে থাকলে সেই ভুল সংশোধনের দায়িত্ব কার?

ভূমি প্রশাসনের একটি বড় সমস্যা হলো, কাগজে-কলমে মালিকানা তৈরি হয়ে গেলে অনেক সময় সেটিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ খতিয়ান, নামজারি কিংবা খাজনা পরিশোধের কাগজ থাকলেই সব ক্ষেত্রে জমির মালিকানা বৈধ হয়ে যায় না। জমির প্রকৃত মালিকানা, পূর্ববর্তী রেকর্ড এবং সরকারি স্বার্থ জড়িত আছে কি না—এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।

সাবরেজিস্ট্রি অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমিগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিল এবং ভূমি অফিসের কাগজপত্র অনুযায়ী ইয়াসিনের নামে নামজারি করা ছিল। তদন্তে এই বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে কাগজপত্র ঠিক দেখালেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। বিশেষ করে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, সরকারি সম্পত্তির দাবি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত।

দুই কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ, তদন্ত কোথায়?

সাবরেজিস্ট্রার রায়হান হাবীবের বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে এটি শুধু একজন কর্মকর্তার দুর্নীতি নয়; সরকারি দায়িত্বকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করার গুরুতর উদাহরণ। আর অভিযোগটি মিথ্যা হলে সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ অনুযায়ী, রায়হান হাবীবের বদলির আদেশ হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগের দিন দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করা হয়। প্রশ্ন হলো, এত অল্প সময়ে ৬৫টি দলিল সম্পন্ন করার প্রয়োজন কেন হলো? জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না? দলিলগুলো কার নামে হস্তান্তর করা হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু মৌখিক বক্তব্যে পাওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট নথি, রেজিস্ট্রি বই, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও জিজ্ঞাসাবাদ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জানানোর পর বদলির আদেশ সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে সংবাদে উল্লেখ রয়েছে। এটি তদন্তের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু জনগণ শুধু বদলি স্থগিতের খবর জানতে চায় না। তারা জানতে চায়, অভিযোগের সত্যতা কী? জমির কোনো অংশ সরকারি খাসজমি হলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা কী? রেজিস্ট্রি হওয়া দলিলগুলো স্থগিত বা বাতিল করার আইনগত ভিত্তি আছে কি না? অভিযুক্ত কর্মকর্তা কিংবা অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

প্রশাসনের ভেতরে যোগসাজশ থাকলে আইন চলবে কীভাবে?

আমাদের দেশে অনেক সময় অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়, কিন্তু তার সম্পদ, ব্যবসা ও প্রভাব ঠিকই বহাল থাকে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এলাকায় ভয় দেখায়, জমি দখলের অভিযোগ ওঠে, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অথচ এসব সম্পত্তির কাগজ তৈরি, নামজারি কিংবা দলিল রেজিস্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সরকারি দপ্তরের ভূমিকা থাকে।

কোনো কর্মকর্তা যদি জেনেশুনে অবৈধ সম্পত্তির লেনদেনে সহযোগিতা করেন, তাহলে অপরাধী শুধু নিজের শক্তিতে এগিয়ে যান না; রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কোনো অংশও তাঁকে সুযোগ করে দেয়। আবার প্রশাসনের কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলেও তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

তাই শুধু একজন সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে তদন্ত করলেই হবে না। জমির মূল রেকর্ড, নামজারি, খাজনা, দলিল প্রস্তুত এবং রেজিস্ট্রির প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করতে হবে। কোথায় অনিয়ম হয়েছে, কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কারও যোগসাজশ ছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে বের করতে হবে।

এখানে আরও কয়েকটি প্রশ্ন জরুরি। ইয়াসিনের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও তাঁর সম্পত্তি কেন নজরদারির বাইরে ছিল? তাঁর নামে থাকা সম্পত্তির প্রকৃত উৎস কী? সেগুলোর কোনো অংশ সরকারি জমি কি না? এসব বিষয় আগেই যাচাই করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো কি না?

আইনের শাসন কি শুধু বক্তৃতায় থাকবে?

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অর্থ হলো, আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। একজন দরিদ্র মানুষ জমির কাগজে ভুল করলে যেমন তাঁকে জবাবদিহি করতে হয়, তেমনি শতকোটি টাকার সম্পত্তির মালিক কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে। একজন সরকারি কর্মচারী সাধারণ মানুষের কাছে ঘুষ চাইলে যেমন শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার কথা, তেমনি বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনা তাই শুধু চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনের শাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তদন্ত যদি প্রভাবমুক্ত হয়, সরকারি জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে মানুষের আস্থা ফিরতে পারে। কিন্তু তদন্ত যদি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে এবং কিছুদিন পর বিষয়টি চাপা পড়ে যায়, তাহলে সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের কাছে ভুল বার্তা যাবে।

প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং আইনের প্রয়োগে নিরপেক্ষ থাকা। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যদি একটি এলাকার জমি, মানুষের জীবন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তাহলে সেটি প্রশাসনের জন্য বড় ব্যর্থতা। আর সেই গোষ্ঠীর সম্পত্তি হস্তান্তরে সরকারি দপ্তরের কোনো কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের মানুষ আর শুধু তদন্ত কমিটি গঠনের খবর শুনতে চায় না। তারা দেখতে চায়, অপরাধের অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে। সরকারি জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কেউ সহযোগিতা বা দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রের ক্ষমতা সন্ত্রাসী বা প্রভাবশালীদের সম্পদ রক্ষার জন্য নয়; রাষ্ট্রের ক্ষমতা সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। জঙ্গল সলিমপুরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে শুধু একটি এলাকার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, দেশের অন্যান্য এলাকার অপরাধী গোষ্ঠীও উৎসাহিত হতে পারে।

তাই এখন আর প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই—বাংলাদেশের প্রশাসন কোথায়? সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব কার? আর আইনের শাসন কি সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন