নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাধা ও হুমকির অভিযোগ
আনহার সমশাদ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় নিজ জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা দ্বীন মোহাম্মদের সন্তান ও মরিশাস প্রবাসী ফারুক মিয়া। এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা যায়, ফারুক মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন নয়ানগর কল্যাণদী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিবেশী মো. জালাল ওই জমিতে নিজের অংশ রয়েছে দাবি করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ফারুক মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবেশী মো. জালালের সঙ্গে ৩২১ নম্বর দাগের জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। জালালের আপত্তিও ওই দাগ ও সংশ্লিষ্ট খতিয়ানকে কেন্দ্র করে। তবে তিনি বাড়ি নির্মাণ করছেন পৃথক ৩২০ নম্বর দাগের জমিতে। তাঁর দাবি, জমির দলিল, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই না করেই তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগে ফারুক মিয়া আরও উল্লেখ করেন, তিনি গত ১৬ বছর ধরে মরিশাসে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত। তিন মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। ছুটি শেষে তাঁকে আবার কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। কিন্তু এরই মধ্যে মো. জালাল কখনো পুলিশ, আবার কখনো উচ্ছৃঙ্খল লোকজন পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফারুক মিয়ার দাবি, নির্মাণকাজ বন্ধ না করলে তাঁকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, হয়রানি থেকে প্রতিকার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত মো. জালাল বর্তমানে এলাকায় আসেন না। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলেও জানান ওসি।
ওসি আরও বলেন, তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ফারুক মিয়াকে বাড়ি নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখতে বলেছেন।
তবে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে আদালতের মামলার সর্বশেষ অবস্থা এবং অভিযুক্ত মো. জালালের বক্তব্য জানা যায়নি।