সোনাতলায় মেলা ইজারা নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে উত্তেজনা, সাংবাদিকদের হুমকি
বগুড়া, ১৬ এপ্রিল — বগুড়ার সোনাতলায় লোহাগড়া মেলার উন্মুক্ত ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মেলার ইজারা প্রক্রিয়া চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা হলরুমে উন্মুক্ত ডাক চলাকালে দিগদাইড় ইউনিয়নের বিএনপি নেতা সাফিরুল ইসলাম সাফি ও হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন প্রবেশ করতে গেলে তাদের পথরোধ করেন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি গ্রুপ। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে রূপ নেয়। ১৯৮০ সালের ‘ছুটির ঘণ্টা’ এবার বাস্তব! টয়লেটে বন্দি ৮ বছরের শিশু
এ সময় সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক আমিরুল ইসলামের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। তারা তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত মেলার ডাক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেলার ডাক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় সোনাতলা বড় বাজার ও সোনালী ব্যাংক মোড় এলাকায় সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোনাতলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।