শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬৫৮ বার দেখা
শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার, ৫ জুলাই: পুলিশের যোগসাজশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি মৌলভীবাজার জেলা শাখা। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে পুলিশ ও মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল হোসাইন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন এনসিপি নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার আহ্বায়ক খালেদ হাসান, সদস্য সচিব রুহুল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান বিন জাকারিয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বিমল কুমার সিংহ।

লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত দলের কর্মসূচিতে অংশ নিতে নেতাকর্মীরা মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়েছিলেন। এ সময় আব্দুল্লাহ আল হোসাইন (জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক), কামরুল হাসান (যুগ্ম সদস্য সচিব), জাবেদ রহমান (কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় ছাত্রশক্তি) এবং শাফাকাত হোসেন সাদেকের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এমনকি দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়িতেও ধাক্কাধাক্কি ও আঘাতের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

তারা আরও দাবি করেন, কুলাউড়ার নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বিএফ শাহীন কলেজের সামনে একই ব্যক্তিরা পুনরায় বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনা ঘটান। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে অভিযুক্তরা মৌলভীবাজারে ফিরে যান।

এনসিপি নেতাদের ভাষ্য, তারা কুলাউড়ার কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল হোসাইনকে ছাত্রলীগ অপহরণ করেছে বলে প্রচারণা চালানো হয়। পরবর্তীতে তাদের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়।

তাদের দাবি, সম্ভাব্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা এড়ানো এবং প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই এ মামলা করা হয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলায় এনসিপি, জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তারা কেউ সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে অবগত নন এবং তাদের কোনো বক্তব্যও গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন নেতারা।

তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত অবস্থা যাচাই, জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই মৌলভীবাজার মডেল থানা তড়িঘড়ি করে মামলাটি গ্রহণ করেছে, যা মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান বিন জাকারিয়া অভিযোগ করে বলেন, মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল হোসাইন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায়ই মৌলভীবাজার মডেল থানার সামনে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছে দাবি করেছেন যে থানায় নানা ধরনের বিষয় তার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত প্রমাণ বা নথিপত্র তাদের কাছে নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল হোসাইন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে থানায় যাওয়া-আসা ছিল। আমার স্ত্রী-সংক্রান্ত একটি সমস্যা ও নিরাপত্তার বিষয়েও আমি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু থানায় কোনো অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনা করা বা আমার মাধ্যমে থানার কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কারও কাছে থাকে, তাহলে তা জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হোক।’

অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে মামলা দায়ের এবং থানায় অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার।

মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘মামলার আসামিরা নিজেদের রক্ষার জন্য নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। মৌলভীবাজার মডেল থানায় সন্ধ্যার পর থেকে কেউ অবস্থান করে বা কোনো ধরনের অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হয়, এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাদের মতে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে দল ও নেতাকর্মীদের হয়রানির চেষ্টার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন