শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৫৮১ বার দেখা
শেয়ার করুন

রুহুল আমীন রাহাত, ঢাকা, ১২ মে — মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৯ মে পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জনে পৌঁছেছে। ৪ মে একদিনেই সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যু। এরপর ৫ মে আরও ৬ শিশু, ৬ মে ৭ শিশু এবং ৯ মে আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

একই সময়ে প্রতিদিন হাজারের বেশি নতুন সন্দেহভাজন আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে। ৬ মে পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ছাড়িয়ে যায় এবং নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি পৌঁছায়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো টিকা প্রদান নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ শিশুর মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব ছিল।

বাংলাদেশ একসময় দক্ষিণ এশিয়ায় টিকাদান কর্মসূচির সফল উদাহরণ হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) দেশের শিশু মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এমনকি করোনা মহামারির সময়ও বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ নিয়ে সফলভাবে গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার প্রতিদিন স্বাস্থ্য বুলেটিন প্রকাশ, জনসচেতনতা প্রচার এবং ডিজিটাল টিকাদান ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলেছিল। কিন্তু হামের ক্ষেত্রে সেই প্রস্তুতি, সমন্বয় ও তথ্যের স্বচ্ছতা দেখা যায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়েই বাংলাদেশে ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয় এবং অন্তত ১৬৬টি সন্দেহজনক মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। আক্রান্তদের বড় অংশই ছিল পাঁচ বছরের নিচের শিশু এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু টিকাবঞ্চিত ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রশাসনিক জটিলতা, নীতিগত পরিবর্তন এবং আমদানি প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকাবিরোধী গুজব ও বিভ্রান্তিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, মাঠপর্যায়ের দুর্বল নজরদারি এবং স্বাস্থ্য খাতের সমন্বয়হীনতার কারণে দেশে “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি হয়েছে, যার ফলেই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বর্তমানে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর পরিকল্পনা ও আগাম পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এত প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, তথ্যের স্বচ্ছতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন