শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬৭৭ বার দেখা
শেয়ার করুন

সীমান্ত তালুকদার, সিরাজগঞ্জ, ৮ মে — বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আজও একটি প্রাসঙ্গিক নাম। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।

তার রাজনৈতিক জীবনের মূল দর্শন ছিল “মজলুমের রাজনীতি”। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতির উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও মজুরদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার মাধ্যমে তিনি একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

মওলানা ভাসানীর বিখ্যাত আহ্বান “মজলুম জনতা এক হও” এখনও নিপীড়িত মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। তার মতে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হবে যখন সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত হবে। তিনি শোষণমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ধর্ম সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল মানবিক ও সাম্যভিত্তিক। তিনি ইসলামকে দেখেছেন মানবমুক্তি, ইনসাফ ও সামাজিক ন্যায়ের ধর্ম হিসেবে। ধর্মকে কখনো বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং মানুষের কল্যাণের শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

সাম্রাজ্যবাদ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও মওলানা ভাসানী ছিলেন দৃঢ় অবস্থানে। ফারাক্কা লংমার্চ তার নেতৃত্বে পরিচালিত অন্যতম ঐতিহাসিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মওলানা ভাসানীর আদর্শ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। সমাজে বৈষম্য, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়তে থাকায় তার ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

মওলানা ভাসানী বিশ্বাস করতেন, রাজনীতি মানে জনগণের সেবা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তার স্বপ্ন ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গঠন, যেখানে সবাই সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন