নাসিরনগরে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা, টিকে আছে হাজার বছরের বিনিময় প্রথা
সুজিত কুমার চক্রবর্তী,, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৬ এপ্রিল — ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় পঞ্জিকা অনুযায়ী বাংলা নববর্ষে উপজেলা সদর লঙ্গন নদীর তীরে মহাখাল পাড়া ও কুলিকুন্ডা গ্রামে বসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা ও বিনিময় প্রথা।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পয়লা বৈশাখের দ্বিতীয় দিন থেকে কুলিকুন্ডা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে টানা তিন দিন। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে পণ্য বিনিময় প্রথা। মেলা শুরুর পর থেকেই স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, শিমের বিচি, আমসহ নানা ধরনের ফল ও সবজির বিনিময়ে বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি সংগ্রহ করছেন।
বিশেষ করে সকালে মেলায় নারীদের অংশগ্রহণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। এখানে বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, পুটি, ট্যাংরা, আইড়, ছুরি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের ডিম ও শুঁটকি পাওয়া যাচ্ছে।
শুঁটকির পাশাপাশি কুমারদের তৈরি মাটির শিল্প, নানান সামগ্রী ও খেলনাও বিক্রি হচ্ছে মেলায়। ফলে এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
এলাকার স্থানীয়রা জানান, এই মেলা তাদের বাপ-দাদার জন্মের আগের, অর্থাৎ প্রায় হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য বহন করছে। যখন টাকার প্রচলন ছিল না, তখন থেকেই এক পণ্যের বিনিময়ে অন্য পণ্য আদান-প্রদান করা হতো, যা আজও এই মেলার মাধ্যমে টিকে আছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওহাব আলী বলেন, এই মেলা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে গ্রামীণ বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে তোলে। মেলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণ সার্বিক সহযোগিতা করছে।