পহেলা বৈশাখে মাটির প্রাণীর মূর্তি: ইসলামের দৃষ্টিতে কতটা গ্রহণযোগ্য?
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল —পহেলা বৈশাখ বাঙালির সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব। এ দিনকে ঘিরে গ্রাম থেকে শহরজুড়ে মেলা, আয়োজন ও আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। এসব আয়োজনের একটি পরিচিত দিক হলো মাটি দিয়ে হাতি-ঘোড়া, পাখি বা বিভিন্ন জীবজন্তুর আকৃতি তৈরি। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কতটা গ্রহণযোগ্য—তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামে নির্ধারিত ধর্মীয় উৎসব মূলত দুটি—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে লোকদের দুইটি উৎসব পালন করতে দেখে বলেন, “আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দুটির পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।” (আবু দাউদ: ১১৩৪)। সে হিসেবে অন্য কোনো দিনকে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে নির্ধারণ করা ইসলামের দৃষ্টিতে সমর্থিত নয়। তবে সামাজিক বা সাংস্কৃতিকভাবে কোনো দিন পালন করা হলে শরীয়তের সীমা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
মাটি দিয়ে জীবজন্তুর আকৃতি তৈরি প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদিসে সৃষ্টির বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ডাকো, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তারাই সৃষ্টি।” (সুরা নাহল: ২০)। এতে সৃষ্টির ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর—এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
হাদিসে জীবিত প্রাণীর ছবি বা মূর্তি তৈরি সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে তারা, যারা ছবি তৈরি করে।” (সহিহ বুখারি: ৫৯৫০; সহিহ মুসলিম: ২১০৯)। অন্য হাদিসে এসেছে, “যারা এসব ছবি তৈরি করে, তাদেরকে কিয়ামতের দিন বলা হবে—তোমরা যা তৈরি করেছ, তাতে প্রাণ দাও।” (সহিহ বুখারি: ৫৯৬৩)।
এসব বর্ণনার আলোকে অধিকাংশ আলেমের মতে, জীবিত প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি বা মূর্তি তৈরি করা নিষিদ্ধ বা অন্তত কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে শিরক বা মূর্তিপূজার ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শিশুদের খেলনা বা শিক্ষামূলক প্রয়োজনে সীমিত ছাড়ের কথা কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন।
পহেলা বৈশাখের মেলায় মাটির তৈরি প্রাণীর আকৃতি অনেক সময় ঐতিহ্য বা বিনোদনের অংশ হিসেবে দেখা হলেও সচেতন মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো—তাদের কাজ ইসলামের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। কোনো বিষয় সন্দেহজনক হলে তা পরিহার করাই উত্তম বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিকভাবে বলা যায়, পহেলা বৈশাখকে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে উদযাপন ইসলামে সমর্থিত নয়। একইভাবে মাটির তৈরি জীবজন্তুর প্রতিকৃতি নির্মাণের বিষয়টিও হাদিসের আলোকে নিরুৎসাহিত হওয়ায় এ থেকে বিরত থাকাকে অধিক নিরাপদ পথ হিসেবে দেখা হয়।