শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬৪৩ বার দেখা
শেয়ার করুন

পুঠিয়া (রাজশাহী), ১০ এপ্রিল — রাজশাহীর পুঠিয়ায় অভিনব কৌশলে সংস্কারের নামে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও গাফিলতির সুযোগে ধানী জমিকে পুকুরে রূপান্তর করে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তবে খাজনা আদায় করা হচ্ছে ধানী জমির হারে, ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধানী জমির খাজনা প্রতি শতাংশে ২ টাকা হলেও বাণিজ্যিক পুকুরের ক্ষেত্রে পৌর এলাকায় ৪০ টাকা এবং ইউনিয়ন এলাকায় ৩০ টাকা হারে নির্ধারিত রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর পুনঃসংস্কারের নামে আবেদন করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগেই খনন কাজ শুরু হয়েছে। শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের রাতোয়াল-মালিপাড়া ও বদোপাড়া বিলের মাঝামাঝি প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান ঘটনাস্থলে অভিযান চালাতে গেলে খননকারীরা আগেই এক্সেভেটর সরিয়ে পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের অভিযান শুরুর আগেই খননকারীরা তথ্য পেয়ে যায় এবং সরে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম হোসেন জানান, প্রথমে তিন ফসলি জমির ওপর অল্প গভীরতায় কেটে পুকুরের আকৃতি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে জমি অনাবাদি দেখিয়ে পুকুর খননের অনুমতি নেওয়া হয়। এতে রাজনৈতিক প্রভাবও কাজে লাগানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম মণ্ডল ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলে কিছুদিন এ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে সম্প্রতি আবারও বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “পুকুর খননের বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন