মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি, কারণ জানতে সংসদীয় কমিটির তলব

৪ ঘণ্টা আগে • Editing Section
৫৪৩ বার দেখা
শেয়ার করুন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজে ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছে কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় দুর্নীতির দায় নির্ধারণ এবং আইটি খাতের দুর্বলতার কারণে রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি তহবিলের অপচয় বন্ধ, দীর্ঘদিনের অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক উড়োজাহাজ কেনাকাটা, খুচরা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করার বিষয়েও তাগিদ দিয়েছে কমিটি।

এ পর্যন্ত অডিট আপত্তির বিপরীতে সরকারি কোষাগারে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা এখনো অনাদায়ি রয়েছে এবং অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ চাওয়া হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া ও অসম্পূর্ণ প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাপ্তরিক প্রমাণসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

কমিটির উত্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন