মৌলভীবাজারে নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, খালাস ৫
২০২৩ সালের আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রায় ২০২৬ সালে
এস এম মেহেদী হাসান: মৌলভীবাজারের আলোচিত কলেজছাত্র রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ রবিউল আউয়াল এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়রা মামলা নম্বর ৭৫৬/২০২৪। মামলার বাদী নিহত নাঈমের বাবা মো. চেরাগ আলী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন—মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন। তাঁদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।
অন্য পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁদের খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর মৌলভীবাজার শহরতলীর চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন নাঈম।
ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে নাঈমকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
হামলায় নাঈমের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত নাঈমের বাবা মো. চেরাগ আলী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে।
২০২৩ সালে সংঘটিত নাঈম হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে ২০২৬ সালে রায় ঘোষণা করা হলো। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছরের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এপিপি অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট আবুল হায়দার মো. তরিক।
চার আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামির খালাসের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী জানান, মামলার রায়ে তারা সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা আসলে এতে সন্তুষ্ট নই। এর আগে কোনো পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। কোনো ধরনের পর্যবেক্ষণ ছাড়াই এটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাক্ষীদের কোনো পর্যবেক্ষণ না করেই তাদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এটাই এ বিষয়ে আমার মন্তব্য।”