শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং

ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো: পুলিশ

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • Editing Section
৫৯৫ বার দেখা
শেয়ার করুন

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে তাঁর শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো বলে আদালতকে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ডে গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে মরিয়মের মাঝেমধ্যে বারান্দায় ঘুমানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিমান্ডে কী তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম রিমান্ডে জানিয়েছেন, মামলার বাদী ও মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ তাঁর আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগনে। আর মরিয়ম তাঁর নাতনি।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলে বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং সেখান থেকেই সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এ সময় মরিয়মের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে এবং পরে তাঁরা বিয়ে করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন ধর্মীয় রীতিতে নজরুল ইসলাম ও মরিয়মের বিয়ে হয়। পরে নিজ এলাকায় তাঁদের বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়।

প্রথম স্ত্রীও থাকতেন ন্যাম ভবনে

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম এবং মামলার ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন। মাকছুদা ইসলাম তাঁর প্রথম স্ত্রী।

আবেদনে আরও বলা হয়, প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাসের সময় মরিয়ম মাঝেমধ্যে নজরুল ইসলামের শয়নকক্ষের পাশের ব্যালকনিতে ঘুমাতেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গাজী নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনা সম্পর্কে ‘আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে।

যেভাবে শুরু হয় মামলা

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গাজী নজরুল ইসলামের বয়স ৭৫ বছর।

ঘটনার পর রাতে গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। একই রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মামলার তৃতীয় আসামি ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। তাঁকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত চলছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য ও পুলিশের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন