পিকআপ চালক প্রেমিকের সঙ্গে উধাও গৃহবধূ, ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তোলপাড় বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর
মোজাহিদ আহমদ, সিলেট: সিলেটের বালাগঞ্জে এক গৃহবধূকে অপহরণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন মোড় নিয়েছে ঘটনাটি। একদিকে গৃহবধূর ভাই আদালতে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেছেন, অন্যদিকে ওই গৃহবধূর স্বামী স্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঘরের মালামাল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ব্যাংকের চেক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগরের প্যায়ারাপুর গ্রামের মো. ইমন মিয়া তার বোন আবিদা বেগমকে অপহরণের অভিযোগ এনে সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। মামলায় নোমান মিয়াকে (৩০), সোহেল মিয়া (২৭), ফাহিম মিয়া (২৫)কে আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়। আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য বালাগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আবিদা বেগমের স্বামী কাছিম উল্লাহ তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। ওই অর্থের লোভে এক্ই গ্রামের নোমান মিয়া আবিদা বেগমকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে ঘটনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করে ১৭ মে ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত একটি হলফনামা। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা ওই হলফনামায় আবিদা বেগম দাবি করেন, তিনি স্বামীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানান, তার পক্ষে ওই সংসার করা সম্ভব নয়।
এদিকে, ওই তালাক ঘোষণার নোটিশ পাওয়ার পর গত ২ জুন কাছিম উল্লাহ বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আবিদা বেগম (২৫), নোমান মিয়া (৩০), জলি বেগম (৩৬), জুসনা বেগম (৪০), সাজনা বেগম (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা মামলায় কাছিম উল্লাহ অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রী আবিদা বেগম অন্য আসামিদের সহযোগিতায় বাড়ি থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় ঘরের বিভিন্ন মালামাল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ চেকপত্র নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে আদালতে অপহরণ এবং ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবং অন্যদিকে থানায় চুরি, লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক মামলা চলমান রয়েছে। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া জানান, মামলা দু’টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।