শাপলা চত্বরের সেই রাত: ১৩ বছর পর তদন্তে ‘গণহত্যা’র ইঙ্গিত
ঢাকা, ৫ মে — ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘গণহত্যা’র বিষয়টি। ১৩ বছর পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে এ ধরনের ইঙ্গিত মিলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তদন্তের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে।
তদন্ত সংস্থার প্রধান আনসার উদ্দিন খান পাঠান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করে। ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এলাকায় দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। রাতের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকা খালি করে।
পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই দিনের ঘটনা দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
২০২৪ সালের ২০ আগস্ট এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে অভিযোগটি দেন আজিজুল হক। এতে ২৫ জনকে আসামি করার প্রস্তাব করা হয়। — ভিডিও দেখুন — পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঝড়! ‘খেলা শেষ’ বার্তা, পিছিয়ে তৃণমূল
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হচ্ছে। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ ও সাবেক র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ আরও অনেকে অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকায় অন্তত ৩২ জন নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও হতাহতের প্রমাণ মিলেছে।
তিনি বলেন, ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি আর্থিক সহায়তার বিষয়েও কিছু তথ্য মিলেছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আগামী ৭ জুন পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। — ভিডিও দেখুন — পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঝড়! ‘খেলা শেষ’ বার্তা, পিছিয়ে তৃণমূল
মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ তাদের এক প্রতিবেদনে অন্তত ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরেছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।