১৪ লাখ টাকার হিসাব চাইতেই গৃহবধূকে ফাঁস দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
আমির হোসেন, সুনামগঞ্জ, ৩১ মে— সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় প্রবাসজীবনে উপার্জিত ১৪ লাখ টাকার হিসাব চাইতে গিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিরিনা বেগম নামে এক গৃহবধূ। এ সময় তাকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামে ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্বম্ভরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে শিরিনা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার সন্তান রয়েছে। পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তিন বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান শিরিনা। সেখানে একটি কফি শপে কাজ করে তিনি ধাপে ধাপে প্রায় ১৪ লাখ টাকা স্বামীর অ্যাকাউন্টে পাঠান।
সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি ওই টাকার হিসাব চাইলে স্বামী শাহজাহান মিয়া, দেবর লিটনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২৫ মে সন্ধ্যায় বাজার থেকে সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাক কিনে বাড়ি ফেরার পর তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় এবং দেবর লিটন পিছন থেকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ সময় তার মেয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজনরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।
শিরিনা বেগম অভিযোগ করেন, নিজের কষ্টার্জিত অর্থের হিসাব চাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তার সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি (তদন্ত) ওলি আশরাফ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।