শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬০৯ বার দেখা
শেয়ার করুন

খাগড়াছড়ি, ৪ এপ্রিল — দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম সাত ভাইয়া থেকে উঠে এসে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন যমজ দুই বোন আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনি। কিন্তু সংগ্রাম, উপেক্ষা ও বাস্তবতার চাপে থেমে গেছে তাঁদের সম্ভাবনাময় ফুটবল ক্যারিয়ার।

টিনের ছাউনি আর মাটির উঠানে বড় হওয়া এই দুই বোনের জীবনে শুরু থেকেই ছিল অভাবের ছাপ। বাবা রিপ্রু মগিনি ও মা আপ্রমা মগিনির সংসারে দুই মেয়েকে বড় করা ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় শিক্ষক বীরসেন চাকমার হাত ধরে ফুটবলে পথচলা শুরু হয় তাঁদের।

২০১৬ সাল থেকে বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলতে শুরু করেন আনাই ও আনুচিং। ২০২১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আনাই মগিনির করা একমাত্র গোলে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেই নায়িকা হয়ে ওঠেন তিনি।

তবে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি আনাই। জাতীয় দলে ডাক পেলেও পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোতে উপেক্ষিত হন। ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ছোট বোন আনুচিং দলে সুযোগ পেলেও আনাই থাকেন বাইরে। একের পর এক উপেক্ষা ও হতাশা থেকে মাত্র ২১ বছর বয়সে ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। পরে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ান আনুচিংও।

বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে অস্থায়ী চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন আনাই। মাসে ১০ হাজার টাকার আয়ে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। অন্যদিকে আনুচিং চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করছেন, যা চলছে বড় বোনের সহায়তা ও সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে।

আনাই মগিনি বলেন, “একসময় সবাই খোঁজ নিত, এখন কেউ নেয় না। অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে।” আনুচিংয়ের কথায়ও উঠে আসে একই বাস্তবতা—চাকরি পেতে অর্থের প্রয়োজন, যা তাঁদের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন।

খাগড়াছড়ির এই দুই বোন একসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন ফুটবল দিয়ে নিজেদের ও পরিবারের ভাগ্য বদলাবেন। কিছুটা পথ এগোলেও বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে এসে থমকে গেছে সেই স্বপ্ন।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন