শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৫৮১ বার দেখা
শেয়ার করুন

সালেহ আহমদ (স’লিপক): মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভাকে নান্দনিক, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর। পৌরসভার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে চান তিনি।

গত ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছরকে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. ইয়ামীর আলী।

একই সভায় পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডে মাওলানা নুরুল ইসলাম হায়দার, ২ নম্বর ওয়ার্ডে জাবের আহমদ মিন্টু, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবু তালেব, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আরমান হোসেন দুলন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মিলাদ তরফদার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি আলাউদ্দিন শাহ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস নোমান, কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মো. মাসুক মিয়া এবং উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. মনসুর আলীসহ অন্য নেতারা।

সভায় অধ্যক্ষ মো. ইয়ামীর আলী বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য থেকে শুরু করে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তিনি প্রার্থীদের দ্রুত ভোটারদের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ প্রতিটি স্তরে নতুন নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছে। ধারাবাহিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারলে শেষ পর্যন্ত তাঁরা জামায়াতের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পৌরসভার সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব

দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর। নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কমলগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পৌরসভার সমস্যাগুলো সমাধান এবং সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভা গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকেই তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কয়ছর বলেন, কমলগঞ্জের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি অতীতেও রাজপথে ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান। কমলগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ও উন্নীতকরণের প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মানুষের সুখে-দুঃখে সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

তাঁর দাবি, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভা এগিয়ে যেতে পারেনি। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে পৌরসভাটি উন্নয়নবৈষম্যের শিকার হয়েছে। ফলে নাগরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি এবং নানা সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

পৌরসভার সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও অবৈধ স্থাপনা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা সড়ক, ফুটপাত দখল, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশা ও রোগবাহী জীবাণু নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা এখনো রয়েছে।

নির্বাচিত হলে যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা

সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, ড্রেনেজ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা।

শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিকল্পিত সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ নাগরিক সেবা অনলাইনে দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থাও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে।

এ ছাড়া পৌরসভার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণদের খেলাধুলা ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলার মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার পাশাপাশি পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়াতে মার্কেট নির্মাণ ও রাজস্বের নতুন উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। ভিক্ষুকের বদদোয়া কতটা ভয়ংকর? | নাসির উদ্দিন যুক্তিবাদী, গোপালগঞ্জ

প্রবাসীদের জন্য সহায়ক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এই মেয়র পদপ্রার্থী। তাঁর প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার আধুনিকায়ন এবং পৌরবাসীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে কমলগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্বাচনে বিজয়, পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের ওপর।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন