শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৫৪১ বার দেখা
শেয়ার করুন

গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ, ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন কি না। প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইসরায়েলের নেতৃত্ব বদলালেই ফিলিস্তিনিদের জীবনে স্বস্তি ফিরবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ইসরায়েলে এবার প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার রয়েছেন। তাঁরা পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের জন্য ভোট দেবেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো জোটের প্রয়োজন ৬১টি আসন।

ইসরায়েলে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। তাঁরা রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাতে দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন করা হয়। পার্লামেন্টে আসন পেতে একটি দলকে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।

নেতানিয়াহুর পক্ষে ডানপন্থী ও ধর্মীয় দল

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিকদের মধ্যে রয়েছে ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার এবং বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি। বেন-গভির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী এবং স্মোত্রিচ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া অতি রক্ষণশীল ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমও নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য মিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটসসহ কয়েকটি দলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিরোধী শিবির। এই শিবির নির্বাচনে জয়ী হলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকটকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। টুগেদারের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও এ পদের দাবিদার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও সরকারপ্রধান হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন।

কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার শঙ্কা

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত শুক্রবারের একটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনে লিকুদ ও ইয়াশার ২২টি করে আসন পেতে পারে। টুগেদার পেতে পারে ১৪টি আসন। ডেমোক্র্যাটস ও জয়েন্ট লিস্টের ঝুলিতে যেতে পারে ৯টি করে আসন।

জরিপ অনুযায়ী, জিউইশ পাওয়ার, শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৮টি করে আসন পেতে পারে। ইসরায়েল বেইতেনু ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেতে পারে ৭টি করে আসন। আর রা’আম পেতে পারে ৫টি আসন।

এই হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে। ফলে কোনো পক্ষেরই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে গাদি আইজেনকটসহ বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন।

নেতানিয়াহু এরই মধ্যে ছয় মেয়াদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এবারও সরকার গঠন করতে পারলে এটি হবে তাঁর সপ্তম মেয়াদ। হিন্দুর বাড়িতে খাবার খেলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যায়? | ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে? | E Bangla 71

নিরাপত্তাব্যর্থতা ও ধর্মীয় নীতিও ভোটের ইস্যু

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। ওই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় এবং ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহু হামলার জন্য নিজের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানালেও বিরোধী নেতারা এ ঘটনায় জবাবদিহি দাবি করছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মের ভূমিকা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।

তবে নির্বাচনে নেতানিয়াহু পরাজিত হলেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ান আল-জাজিরাকে বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু হারলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তারপরও আমি নেতানিয়াহুর পরাজয় চাই।’

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন