শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬৫৩ বার দেখা
শেয়ার করুন

আব্দুল ছালিক, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) ৭ মে — টানা বৈরী আবহাওয়ার পর মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে রোদের দেখা মিলতেই যেন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে হাকালুকি হাওরপাড়ের কৃষকদের মাঝে। গত কয়েকদিন ধরে পানির সঙ্গে লড়াই করে কেটে আনা ধান এখন শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কোরবানপুর, সাদিপুর, গৌড়করণ, মহেষগৌরী, চিলারকান্দি, শমারকান্দি ও ভুকশিমইলসহ হাকালুকি হাওর তীরের বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে, কৃষকেরা ধান মাড়াই, নিড়ানি ও রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

জয়চন্ডী ইউনিয়নের আবুতালিপুর গ্রামের কৃষক ললিত চন্দ্র নাথ, জিতেন্দ্র দাস, কাজল মিয়া, উস্তার মিয়া, আরব আলী, সেলিম মিয়া, মনিন্দ্র দাস এবং বেগমানপুর গ্রামের খেলা বিশ্বাস ও কিরেন্দ্র দাস জানান, গত ৭-৮ দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে হাওরের পানির ভেতর থেকে ধান কাটতে হয়েছে। অতিবৃষ্টি ও পানিতে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে এবং কিছু ধানে পচন ধরেছে। – “মালাউন” কি সত্যিই গালি? শব্দটার আসল ইতিহাস জানলে অবাক হবেন

তারা বলেন, এখন রোদ ওঠায় ধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারলেই তারা সন্তুষ্ট। ক্ষতিপূরণের চেয়ে ভবিষ্যতে আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষার স্থায়ী ব্যবস্থা চান তারা।

কৃষকদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কথা শোনা গেলেও সেখানে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তারা স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের দাবি জানান।

হাকালুকি হাওর থেকে নৌকায় ধান আনতে দেখা যায় কোরবানপুর গ্রামের আশি বছরের বৃদ্ধ জমির মিয়াকে। হাওরের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “আগে এমন ছিল না। এখন প্রায় প্রতি বছরই আগাম বন্যা এসে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।” অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিপর্যস্ত নাসিরনগর | ধান বাঁচাতে শেষ চেষ্টা | E Bangla 71

ভুকশিমইল ইউনিয়নের সদস্য মধু মিয়া ও জয়চন্ডী ইউনিয়নের সদস্য বিমল দাস জানান, হাকালুকি হাওরে মাছের পাশাপাশি বোরোধানই কৃষকদের প্রধান জীবিকা। পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট বিভাগের মধ্যে সবার আগে এই হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা এসেছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) এ কাজ করছে। তিনি বলেন, হাকালুকি হাওরকে যদি হাওর উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আওতায় আনা যেত, তাহলে ফসল রক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেত।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, প্রকৃত কৃষকের নাম যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আগাম বন্যা থেকে বোরোধান রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। – বিপুল ঋণ রেখে সিকদার পরিবারের পতন| E Bangla 71

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন