শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: তদন্তে পুলিশ, এলাকায় ক্ষোভ ও সামাজিক উদ্বেগ

২৬ মে ২০২৬ • Editing Section
৬৫২ বার দেখা
শেয়ার করুন

— এস এম মেহেদী হাসান

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের বড়চর গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) বিকেলে ৯ বছর বয়সী ওই শিশু স্থানীয় দোকানে যাওয়ার পথে একই গ্রামের আফরোজ মিয়া (৩৫) ও তার এক সহযোগীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয় বলে দাবি পরিবারের। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শিশুটির মা সাজেদা বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে নির্জন জায়গায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”

নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মোনায়েম মিয়া জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলছে।

“এ ধরনের ঘটনা শিশুর মানসিক জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে”

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. পলাশ রায় বলেন,

“শিশু নির্যাতনের ঘটনা শুধু শারীরিক ক্ষতি নয়, এটি শিশুর মানসিক বিকাশে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ভয়, আতঙ্ক, বিষণ্নতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়।”

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর জন্য দ্রুত মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং প্রয়োজন। “শুধু শাস্তি নয়, শিশুর পুনর্বাসনও জরুরি,” বলেন তিনি।

“দ্রুত বিচার হলে অপরাধ কমতে পারে”

দৈনিক সবার আগে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনহার সমশাদ বলেন, “ধর্ষণের বিচার তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসে আপিলসহ শেষ করা গেলে অপরাধ অনেক কমে আসবে।” তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া অপরাধীদের সাহস বাড়ায়। “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা নিয়ন্ত্রণেও দ্রুত ব্যবস্থা দরকার,” যোগ করেন তিনি।

“সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে”

মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, “শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক দায়িত্ব জরুরি”

মানবাধিকারকর্মী খিজির মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, “নৈতিক শিক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ায় সমাজে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

“সামাজিক অবক্ষয় ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে”

সাবেক জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জসীম উদ্দীন মাসুদ বলেন, “শিশু ধর্ষণের ঘটনা সমাজকে ভয়াবহ অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।” দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

মৌলভীবাজার শহরের দক্ষিণ কলিমাবাদ জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মাওলানা আব্দুন নুর বলেন, ইসলাম নারী ও শিশুর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েছে এবং অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।” তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শক্তিশালী না হলে সামাজিক অবক্ষয় থামানো কঠিন। ইসলামি আইন বাস্তবায়ন জরুরী হয়ে পড়েছে।

শেষ কথা

নবীগঞ্জের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, শিশু নিরাপত্তা এখন বড় সামাজিক সংকট। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিচার, সামাজিক সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং নৈতিক শিক্ষার সমন্বিত প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব নয়।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন