শেকৃবির পিএইচডি পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখালেন মনিরামপুরের আলমগীর কবীর
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর, ১৪ মে — শিক্ষা, গবেষণা ও নেতৃত্বে একসঙ্গে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কৃতি সন্তান কৃষিবিদ বিএম আলমগীর কবীর। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৮৭ অর্জন করে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস কার্যালয় থেকে প্রকাশিত জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সেমিস্টারের ফলাফলে তার এই সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে মনিরামপুরসহ স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
বিএম আলমগীর কবীর মনিরামপুর উপজেলার ১০ নম্বর মশ্বিমনগর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের সন্তান। গ্রামীণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে অধ্যবসায়, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, সাংগঠনিক দক্ষতার জন্যও তিনি পরিচিত। বর্তমানে তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ব্যস্ততার মধ্যেও একাডেমিক সাফল্য ধরে রাখায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
বর্তমানে প্রফেসর ড. সফিউল্ল্যাহ মজুমদার কিরণের তত্ত্বাবধানে তিনি পিএইচডি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার গবেষণার বিষয় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে “স্মার্ট ক্লাইমেট এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি”-এর প্রয়োগ, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে দেখা দেওয়া লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, খরা ও অতিবৃষ্টির মতো সংকট মোকাবিলায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বিকল্প নেই। আলমগীর কবীরের গবেষণা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আলমগীর কবীর বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। আমি এমন গবেষণা করতে চাই, যা সরাসরি তৃণমূলের কৃষকদের কাজে লাগবে।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রামের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করছি। গবেষণা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
তার এই অর্জনে মনিরামপুরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, আলমগীর কবীরের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করবে।
ভিডিও দেখুন — “খবর প্রকাশ করলে খবর আছে” | সাংবাদিকদের হুমকি এমপি মোবাশ্বেরের | E Bangla 71
ভিডিও দেখুন — ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প | মৌলভীবাজারে সরকারের বড় ঘোষণা