হাকালুকি হাওরে বোরো ধান নিয়ে কৃষকদের প্রাণপণ লড়াই
আব্দুল ছালিক, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) ৪ মে — টানা কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে বোরো ধান রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেতেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধান তুলে এনে রাখা হলেও পচন ধরতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে হাওরের দক্ষিণ তীরের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ও ভুকশিমইল ইউনিয়নে দেখা যায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা ধান কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কেটে আনা ধান খোলা স্থানে স্তুপ করে রাখা হয়েছে, তবে রোদের অভাবে মাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাওরের ধলিয়া বিল এলাকায় গিয়ে কথা হয় জয়চন্ডী ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের কৃষক মান্নান মিয়া, রইছ আলী, লতিফ মিয়া ও আব্দুল করিমের সঙ্গে। তারা জানান, কয়েকদিন আগে কাটা ধান এখনো মাঠেই পড়ে আছে। মেশিন ছাড়া মাড়াই করা সম্ভব নয়, কিন্তু শ্রমিক সংকট ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তাদের অভিযোগ, পাকা ধান চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই ধানের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। — ভিডিও— পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঝড়! ‘খেলা শেষ’ বার্তা, পিছিয়ে তৃণমূল
শুধু একটি গ্রাম নয়, হাওরপাড়ের সাদিপুর, কোরবানপুর, গৌড়করণ, ভুকশিমইলসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। কৃষকদের ভাষ্য, বছরে একমাত্র বোরো ফসলই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। এই ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারাবছর খাদ্য সংকটে পড়তে হবে। ভিডিও— পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঝড়! ‘খেলা শেষ’ বার্তা, পিছিয়ে তৃণমূল
কৃষকরা আগাম বন্যা থেকে বোরো ধান রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।
কুলাউড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমি হাওর এলাকায় অবস্থিত।
ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, তার ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে অর্ধেকের বেশি বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, হাওর এলাকায় অধিকাংশ ধান কাটা সম্ভব হলেও টানা বৃষ্টিতে অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাকি ধান তোলার সম্ভাবনা কমে এসেছে।