শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৫৬৪ বার দেখা
শেয়ার করুন

এস এম মেহেদী হাসান

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কে চায়, আর কে চায় না? দেশের সাধারণ মানুষকে এ প্রশ্ন করলে অধিকাংশই বলবেন, তাঁরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ চান। রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় নেতা—প্রকাশ্যে কেউই দুর্নীতির পক্ষে কথা বলেন না। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া আর নিজের জীবনে দুর্নীতিকে প্রত্যাখ্যান করা এক বিষয় নয়। আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা অন্যের দুর্নীতির সমালোচনা করেন, অথচ নিজের স্বার্থে সুযোগ পেলে অনিয়ম করতে দ্বিধা করেন না।

এই দ্বিচারিতা দুর্নীতিকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম কারণ। আমরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই, কিন্তু নিয়ম মেনে কাজ করতে সময় লাগলে অনেকেই ঘুষ দিয়ে দ্রুত কাজ করিয়ে নিতে আগ্রহী হই। অন্যের ঘুষ নেওয়াকে অপরাধ বলি, আবার নিজের কাজের জন্য ঘুষ দেওয়ার সময় সেটিকে ‘বাধ্য হয়ে দেওয়া’ বলে ব্যাখ্যা করি। এভাবেই দুর্নীতি সরকারি দপ্তরের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের আচরণেও জায়গা করে নেয়।

ধর্মীয় পরিচয় নয়, সততার পরিচয় জরুরি

ছোটবেলা থেকেই অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া, স্বাক্ষর জাল করা, প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা ঘটনা ও অভিযোগের কথা শুনে আসছি। এসব অনিয়ম নতুন নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনিয়ম চলে আসছে বলে সেটিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।

চলতি মাসের ১৩ অক্টোবর মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় একটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, নির্বাহী পরিচালক ও অন্য পরিচালকদের স্বাক্ষর জাল করে ১ হাজার ৫০০ কেজি জিআর চাল উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে খিজির মুহাম্মদ জুলফিকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি জানার পর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এখানে প্রশ্ন শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নয়। সরকারি সহায়তার চাল কীভাবে উত্তোলন করা হলো? প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাক্ষর যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কী পরীক্ষা করেছিলেন? অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।

কেউ দাড়ি রাখেন, ধর্মীয় পোশাক পরেন কিংবা ধর্মীয় পরিচয় বহন করেন—এসব দিয়ে তাঁর সততা প্রমাণিত হয় না। সততার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় কাজ, আচরণ এবং অন্যের অধিকার রক্ষার মধ্য দিয়ে। একই কথা রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী কিংবা সমাজের যেকোনো পরিচয়ের মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন খাতে

বাংলাদেশে দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি বা দুটি ঘটনা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্প, আইন প্রয়োগ, নিয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে কোনো খাতের সব কর্মকর্তা দুর্নীতিগ্রস্ত—এমন সাধারণীকরণও ঠিক নয়। সৎ কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

১. বিআরটিএ: ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নিতে গিয়ে দালালনির্ভরতা, হয়রানি এবং ঘুষের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও কেউ যদি দালালের সহায়তা নিতে বাধ্য হন, তাহলে সেবাব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আবেদন থেকে সনদ পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ অনলাইনে অনুসরণযোগ্য করা গেলে অনিয়মের সুযোগ কমতে পারে।

২. পাসপোর্ট বিভাগ: পাসপোর্টের আবেদন, তথ্য সংশোধন কিংবা জরুরি সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি টাকা দাবি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানির অভিযোগ শোনা যায়। এসব অভিযোগের প্রতিটি সত্য ধরে নেওয়া যাবে না। তবে অভিযোগ তদন্ত এবং প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সরকারি ফি প্রকাশ, নির্ধারিত সময়ে সেবা প্রদান এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. পুলিশ বিভাগ: মামলা গ্রহণে অনীহা, অভিযোগকারীকে হয়রানি, তদন্তে পক্ষপাত কিংবা প্রভাবশালীদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। পুলিশকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাউকে হয়রানি করার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৪. বিচার বিভাগ ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সেবা: বিচারপ্রার্থীদের অনেকে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, বারবার তারিখ পরিবর্তন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ করেন। আদালত-সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। তবে বিচ্ছিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিচার বিভাগকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যায় না। বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমাতে মামলা ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রাপ্তি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন।

৫. বিদ্যুৎ বিভাগ: নতুন সংযোগ, মিটার স্থাপন, বিল সংশোধন, অবৈধ সংযোগ এবং ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের কেনাকাটা ও উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নিয়মিত নিরীক্ষার আওতায় আনাও জরুরি।

৬. কৃষি খাত: কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার, বীজ, কৃষি উপকরণ ও ভর্তুকি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তালিকায় অনিয়ম, প্রভাবশালীদের অগ্রাধিকার কিংবা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে উপকরণ বিক্রির অভিযোগ থাকলে কৃষকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। সহায়তার তালিকা প্রকাশ, বিতরণের হিসাব সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

৭. সমাজসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তা অসহায় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দেওয়া, অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করা কিংবা সুবিধা পেতে টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করতে হবে। তালিকা যাচাইয়ে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং সহজ অভিযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

৮. এলজিইডি ও উন্নয়ন প্রকল্প: গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ কিংবা ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তব কাজের অসংগতির অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। রাস্তা নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে গেলে শুধু ঠিকাদারের ভূমিকা নয়, প্রকল্প অনুমোদন, তদারকি, মান যাচাই ও বিল পরিশোধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বও পরীক্ষা করতে হবে।

৯. মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ: সরকারি কেনাকাটা, প্রকল্প অনুমোদন, নিয়োগ, বদলি, বরাদ্দ বণ্টন ও স্থানীয় উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, প্রভাব খাটানো কিংবা কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ উঠতে পারে। প্রকল্পের তথ্য, ব্যয়, ঠিকাদারের পরিচয় ও কাজের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে।

১০. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম: দুর্যোগের সময় বরাদ্দ করা চাল, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ সহায়তা অসহায় মানুষের অধিকার। এসব সম্পদ আত্মসাৎ, ভুয়া তালিকা তৈরি কিংবা জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, এ ধরনের অনিয়মে বিপদে পড়া মানুষের প্রাপ্য সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত হন। মৌলভীবাজারে জিআর চাল নিয়ে ওঠা অভিযোগের মতো ঘটনায় কাগজপত্র যাচাই, মজুত ও বিতরণের হিসাব মিলিয়ে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন।

দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কী?

দুর্নীতির সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় নয়; আন্তর্জাতিক মূল্যায়নেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ধারণাসূচক (Corruption Perceptions Index—CPI) ২০২৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ১০০-এর মধ্যে ২৩ স্কোর পেয়েছিল এবং ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম অবস্থানে ছিল।

এই সূচক সরকারি খাতের দুর্নীতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের ধারণা মূল্যায়ন করে। এটি দেশে সংঘটিত প্রতিটি দুর্নীতির ঘটনা গণনা করে তৈরি করা কোনো পরিসংখ্যান নয়। তারপরও এ ফলাফল দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।

দুর্নীতি কমাতে শুধু ঘোষণা বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর আইন প্রয়োগ, স্বাধীন তদন্ত, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বে কে?

দুর্নীতি বন্ধের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। আবার জনগণের ওপর দায় চাপিয়ে সরকার নিজের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। সরকারের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার, স্বচ্ছ নিয়োগ, সরকারি অর্থের নিরীক্ষা এবং অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

অভিযোগের নামে কাউকে হয়রানি করা যাবে না। একইভাবে, প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান।

একই সঙ্গে নাগরিকদেরও নিজেদের আচরণ নিয়ে ভাবতে হবে। লাইনে না দাঁড়িয়ে কাজ করানোর জন্য টাকা দেওয়া, পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে নিয়ম ভাঙা, কর ফাঁকি দেওয়া কিংবা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করে নিজের সুবিধা নেওয়াও দুর্নীতির সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে। ছোট অনিয়মকে প্রশ্রয় দিয়ে বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সফল হওয়া কঠিন।

সবচেয়ে জরুরি হলো, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল জনগণকে জানানো। অভিযোগ পাওয়ার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য গোপন থাকলে মানুষের সন্দেহ বাড়ে। বিচারহীনতা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে, আর কার্যকর জবাবদিহি অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত দেখতে সবাই চান—এ কথা আমরা প্রায়ই বলি। কিন্তু প্রকৃত পরীক্ষা বক্তব্যে নয়; নিজের স্বার্থের মুখোমুখি হয়েও নীতিতে অটল থাকার মধ্যে। যিনি ঘুষ না দিয়ে নিজের কাজ করাতে চান, যে কর্মকর্তা অনিয়মের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন, যে জনপ্রতিনিধি বরাদ্দের হিসাব প্রকাশ করেন এবং যে সরকার অপরাধীকে পরিচয় না দেখে বিচারের মুখোমুখি করে—তাঁরাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তোলেন।

তাই প্রশ্ন শুধু, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কে চায়? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—সুযোগ পেয়েও কে দুর্নীতি থেকে বিরত থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে। তা না হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের বক্তব্য থাকবে, কিন্তু দুর্নীতির চর্চাও চলতে থাকবে।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন