শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬৭৪ বার দেখা
শেয়ার করুন

৬ জুন ১৯৪৪: ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই সামরিক অভিযান, যা ইউরোপকে নাৎসি দখলদারত্ব থেকে মুক্তির পথে এগিয়ে দেয়

| এস এম মেহেদী হাসান |

বিশ্ব ইতিহাসে কিছু দিন আছে, যা শুধু একটি যুদ্ধের ফলাফলই নয়, মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করে। ১৯৪৪ সালের ৬ জুন ছিল তেমনই একটি দিন। ইতিহাসে এটি ‘ডি-ডে’ (D-Day) নামে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এই ঐতিহাসিক দিনে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর বিশাল আক্রমণের মধ্য দিয়ে নাৎসি জার্মানির পতনের পথ উন্মুক্ত হয়।

ডি-ডে কী?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপের বড় অংশই ছিল অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ইউরোপকে মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ মিত্রশক্তি গোপনে পরিকল্পনা করে ‘অপারেশন ওভারলর্ড’ (Operation Overlord)।

এই অভিযানের প্রথম দিন, অর্থাৎ ৬ জুন ১৯৪৪-কে বলা হয় ডি-ডে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের একদিন পরে অভিযান শুরু হয় মিত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ারের নির্দেশে।

নরম্যান্ডির রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ

৬ জুনের ভোরে প্রায় ৭ হাজার যুদ্ধজাহাজ ও ল্যান্ডিং ক্রাফট নরম্যান্ডি উপকূলে পৌঁছে। একই সময়ে আকাশপথে অবতরণ করেন প্রায় ২৪ হাজার প্যারাট্রুপার।

ওমাহা, ইউটা, গোল্ড, জুনো ও সোর্ড সৈকতে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার মিত্রসেনা অবতরণ করে। জার্মান বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে বিশেষ করে ওমাহা সৈকতে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু প্রথম দিনেই প্রায় ৪ হাজার ৪০০-এর বেশি মিত্রসেনা নিহত হন। তবুও মিত্রবাহিনী সফলভাবে নরম্যান্ডিতে অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল ডি-ডে?

ডি-ডে ছিল নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে পশ্চিম ইউরোপে মিত্রবাহিনীর সবচেয়ে বড় আক্রমণ। এর ফলে জার্মান বাহিনীকে একই সঙ্গে পূর্বে সোভিয়েত রেড আর্মি এবং পশ্চিমে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়।

নরম্যান্ডি বিজয়ের পর মিত্রবাহিনী দ্রুত ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল মুক্ত করে এবং ১৯৪৪ সালের আগস্টে প্যারিস পুনর্দখল করে। অবশেষে ১৯৪৫ সালের মে মাসে জার্মানির নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

ইতিহাসবিদদের ভাষায়, নরম্যান্ডি সৈকতে মিত্রবাহিনীর অবতরণই ছিল ইউরোপে ফ্যাসিবাদের পতনের কাউন্টডাউন।

বর্তমান বিশ্বের জন্য ডি-ডে’র শিক্ষা

ডি-ডে আজও স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের সংগ্রামের প্রতীক। ৮২ বছর পরও এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, কোনো আগ্রাসন বা স্বৈরশাসন স্থায়ী নয়।

বর্তমান বিশ্বে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কিংবা বিভিন্ন অঞ্চলে মানবাধিকার সংকটের প্রেক্ষাপটে ডি-ডে’র শিক্ষা আরও প্রাসঙ্গিক। ইতিহাস দেখিয়েছে, স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক ঐক্য এবং সম্মিলিত প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় শক্তি।

উপসংহার

৬ জুন ১৯৪৪ শুধু একটি সামরিক অভিযান ছিল না; এটি ছিল মানবমুক্তির সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। নরম্যান্ডির সৈকতে যে অভিযান শুরু হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত হিটলারের নাৎসি সাম্রাজ্যের পতন ঘটায় এবং ইউরোপকে স্বাধীনতার নতুন ভোর উপহার দেয়।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন