৫ জুনের ডায়েরি: ডোনাট, বেলুন আর পৃথিবীর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার গল্প
এস এম মেহেদী হাসান | ফিচার
ক্যালেন্ডারের পাতায় ৫ জুন মানেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস। তবে এই দিনটি শুধু পরিবেশ সচেতনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইতিহাস, সংস্কৃতি, মানবতা ও উদ্ভাবনের নানা গল্পও জড়িয়ে আছে এই তারিখের সঙ্গে। কোথাও ডোনাটের মিষ্টি সুবাস, কোথাও আকাশজয়ের রোমাঞ্চ, আবার কোথাও গণতন্ত্রের বিজয়ের স্মৃতি। চলুন, ৫ জুনের ডায়েরির কিছু ভিন্ন অধ্যায় ঘুরে দেখা যাক।
প্রতি বছর জুনের প্রথম শুক্রবার পালিত হয় আন্তর্জাতিক ডোনাট দিবস (National Donut Day)। ১৯৩৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্যালভেশন আর্মি প্রথম এই দিবস চালু করে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী নারীরা ক্লান্ত ও আহত সৈন্যদের জন্য ডোনাট তৈরি করে সাহস জুগিয়েছিলেন। সেই মানবিক অবদানের স্মরণেই দিবসটির সূচনা।
১৮ শতকে মানুষের আকাশে ওড়ার প্রথম সফল প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল হট এয়ার বেলুন। ফ্রান্সের মন্টগলফিয়ার ভ্রাতৃদ্বয়ের আবিষ্কার করা এই প্রযুক্তি আধুনিক বিমানযাত্রার পথ তৈরি করে।
আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেলুন উৎসব মানুষের কল্পনা, সাহস ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়।
৫ জুনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day)।
১৯৭২ সালে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের পরিবেশ সম্মেলনের স্মরণে ১৯৭৪ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে সচেতনতা তৈরিই এর মূল লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ রক্ষা এখন আর শুধু একটি আন্দোলন নয়, বরং মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার পূর্বশর্ত।
৫ জুন ডেনমার্কের জাতীয় ইতিহাসেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৮৪৯ সালের এই দিনে দেশটির প্রথম সংবিধান কার্যকর হয়, যা ডেনমার্ককে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পথে নিয়ে যায়।
প্রতিবছর দেশজুড়ে দিবসটি গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়।
৫ জুন আমাদের শুধু পরিবেশের কথাই মনে করিয়ে দেয় না; এটি মানবতা, উদ্ভাবন, স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধেরও প্রতীক। ডোনাটের মিষ্টি স্বাদ, আকাশে ওড়ার স্বপ্ন কিংবা গণতন্ত্রের অর্জন সবকিছুর মাঝেই লুকিয়ে আছে একটি সাধারণ বার্তা: ভবিষ্যৎকে সুন্দর রাখতে হলে বর্তমানের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।