অলৌকিক’ গাছ কাটায় রহস্যের অবসান
আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া — কয়েক দিন ধরে আলোচনায় থাকা একটি কড়ই গাছকে ঘিরে ‘অলৌকিক’ দাবি ও জনশ্রুতির অবসান ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় বিতর্কিত সেই গাছটি অবশেষে কেটে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের মুন্সী বাড়িতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কালবৈশাখী ঝড়ে ৩০ বছর বয়সী কড়ই গাছটি হেলে পড়ে। পরে ডালপালা কেটে দেওয়ার পর গাছটির গোড়ার অংশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি ‘নিজে থেকে দাঁড়িয়ে গেছে’ এমন দাবি ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও ভিড় বাড়ে।
এরপর গাছটি ঘিরে কিছু মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে মানত শুরু করেন, যা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তবে প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টিকে কুসংস্কার হিসেবে উল্লেখ করে।
এলাকাবাসীর একটি অংশ গাছটি অপসারণকে স্বস্তির পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, কিছু লোক গাছ কাটার সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ার পর ভারসাম্যের কারণে এমন দেখাচ্ছিল। এতে অলৌকিক কিছু নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, গাছটি নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছিল। জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে এবং মালিকের সম্মতিতে গাছটি অপসারণ করা হয়েছে।