ভাঙাচোরা রাস্তা ও নৌকার দুর্ভোগে লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে, যোগাযোগ ব্যবস্থাই মূল বাধা
পারভেজ হাসান, লাখাই, হবিগঞ্জ — হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীপথ নির্ভর যাতায়াত এবং তীব্র শিক্ষক সংকট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাটি অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষকদের সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো প্রায়ই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাটের অবস্থা, নৌকার উপর নির্ভরতা এবং দীর্ঘ পথ পায়ে হাঁটার কারণে প্রতিদিনই ক্লাস শুরুতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়। প্রথমে গাড়ি, পরে নৌকা এবং শেষ ধাপে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হয়। এ কারণে সময়মতো ক্লাসে উপস্থিত হওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের মতে, বিশেষ করে বুল্লা ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে। সূতাং নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় হেলাকান্দি, চাঁনপুর, ফরিদপুর ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষকে প্রতিদিন নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
১ নম্বর লাখাই ইউনিয়নের শিবপুরসহ নদীপারের কয়েকটি গ্রামও যোগাযোগ সমস্যায় পিছিয়ে রয়েছে। করাব ও মোরাকরি ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তা যাতায়াতকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও জনবল সংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র দুই থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়ে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে একাধিক ক্লাস সামলাতে গিয়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষা খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। সূতাং নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক পাকাকরণ এবং শিক্ষক সংকট দূর করা জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
তাদের দাবি, মৌলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে লাখাইয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার এই পিছিয়ে পড়া অবস্থা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।