শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৫৬০ বার দেখা
শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, সেই ব্যক্তিই যেন ক্ষমতায় যেতে পারেন—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে এখানে কেন আনতে হবে, তা জনগণের প্রশ্ন।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যাঁর সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে, তিনি নিজ এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন না, সেখানে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এটি লজ্জার বিষয়। এর মাধ্যমে আগেভাগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয়ভীতি ও দলীয় প্রভাবের মধ্যে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

জামায়াতের আমীর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই মাঠ সমতল করার চেষ্টা করব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে চাইব। যখন সেই নিশ্চয়তা পাব, তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। আমরা কারও স্কিপগুড হতে চাই না। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই, জনগণ যাঁকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে, তিনিই ক্ষমতায় যাবেন।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সব মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তাঁর প্রধান দায়িত্ব নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজ দেখভাল করা। কিন্তু তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, সমাজে শৃঙ্খলাও ফিরিয়ে আনতে পারেননি। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই।’

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বলে দাবি করেন। তবে ‘আগের চেয়ে ভালো’ বলার মাপকাঠি কী, তা এখনো বুঝতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকদের ভূমিকা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না। এই আয়নায় সমাজের দোষ-ত্রুটি ধরা পড়ে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে সংবাদমাধ্যম ও রাজনীতির ওপর আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্যগুলোর অস্তিত্ব রাখা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর প্রকৌশলী মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা জামায়াতের নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর প্রকৌশলী মো. শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্য নেতারা। এ সময় পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

এর আগে সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর প্রকৌশলী মো. শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া এবং ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা মৌলভীবাজারে এটিই ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম সফর বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন