শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৬০৭ বার দেখা
শেয়ার করুন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার), ১৯ মে — মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগতভাবে ‘ভাতের হোটেল’ ও থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও সৌন্দর্যের জন্য কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকায় প্রশংসিত ছিল। চারপাশের সবুজ পরিবেশ, পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ, ফুলের বাগান ও সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়টি সীমান্ত এলাকার অন্যতম আকর্ষণীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

বিদ্যালয়টিতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সরবরাহকৃত শিক্ষা উপকরণ, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোনো ঘাটতি নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ, পাঠদানের সরঞ্জাম ও বই সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সম্প্রতি বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে রান্নাবান্নার সরঞ্জাম, খাট, বিছানা ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী রাখার বিষয়টি সামনে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। মাঝে মধ্যে সেখানে বহিরাগত লোকজনের অবস্থানও দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

একাধিক অভিভাবক বলেন, “বিদ্যালয়টি এত সুন্দর ও গোছানো হওয়া সত্ত্বেও এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ঠিক রাখতে প্রতিটি কক্ষ শুধুমাত্র শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বণিক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা তার ছোট সন্তানকে নিয়ে সেখানে অবস্থান করতেন। শিশুর দেখাশোনার জন্য একজন গৃহকর্মীও ওই কক্ষে থাকতেন।

তিনি আরও বলেন, “আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই সব সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে কক্ষটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।”

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও প্রাথমিক শিক্ষা বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার স্থান। সেটিকে ব্যক্তিগত আবাসন বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা শিক্ষা নীতিমালা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও শিক্ষার পরিবেশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্থাপনা নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষা বিভাগের নিয়মিত তদারকি জরুরি।”

সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনার পেছনে যে কারণই থাকুক না কেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষকে আবাসিক রূপ দেওয়া সম্পূর্ণ অনিয়ম। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন