কোরবানির ইতিহাস ও শিক্ষা: হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমা
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, ৩০ এপ্রিল — ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কোরবানি, যা আত্মত্যাগ, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতীক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতএব, আপনি আপনার রবের সন্তুষ্টির জন্য সালাত আদায় করুন এবং তাঁর নামে কোরবানি করুন” (সূরা আল-কাওসার: ১-২)।
হাদিসে এসেছে, কোরবানির দিনে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে কোরবানি। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় (তিরমিজি)। “শত কোটি টাকার কেলেঙ্কারি? রিফাত রশিদ ইস্যুতে দেশজুড়ে তোলপাড়”
কোরবানির ইতিহাস মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিদ্যমান। হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কোরবানির ঘটনাই এর প্রথম দৃষ্টান্ত। হাবিলের কোরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হলেও কাবিলেরটি প্রত্যাখ্যাত হয়, যা মানব ইতিহাসের প্রথম হত্যাকাণ্ডের সূচনা করে।
বর্তমান মুসলিম সমাজে কোরবানির প্রচলন মূলত হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে। আল্লাহর নির্দেশে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হন। পুত্রও আল্লাহর আদেশ মেনে ধৈর্য ও আনুগত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। “শিক্ষিকাকে জুতাপেটা! | ভিডিওতে তোলপাড়”
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহিম (আ.)-এর এ আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি মহান কোরবানির পশু দান করেন (সূরা আস-সাফফাত: ১০১-১০৯)। এ ঘটনার স্মরণেই মুসলমানরা প্রতি বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি আদায় করে থাকেন। “মৌলভীবাজারে ঝড়ের ক্ষতি, এগিয়ে এলো ৫২ বিজিবি”
কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় বস্তু ত্যাগ করা। এটি শুধু পশু জবাই নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, আত্মত্যাগ এবং মানবিকতা চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোরবানির মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশি’ ইস্যুতে শুভেন্দু-মমতা তর্ক তুঙ্গে”
ইসলামে কোরবানি সচ্ছল মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। কোরবানির গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশনা রয়েছে, যাতে কেউ বঞ্চিত না থাকে।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, কোরবানি মানুষের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য দৃঢ় করে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ মানার শিক্ষা দেয়।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং একে খাঁটি নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আদায় করতে হবে।