জমিদার বাড়ির ‘বউঘাট’ খুঁড়ে গুপ্তধনের সন্ধান, লুটের অভিযোগ
ফরিদপুর, ২৪ এপ্রিল — ফরিদপুর: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ির ‘বউঘাট’ খনন করে গুপ্তধনের সন্ধানে প্রত্নসম্পদ লুটের অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বউঘাটের নিচের অংশ খুঁড়ে মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পাথরের মূর্তির ভাঙা অংশ, পাথরের থালা, পূজার ঘটিসহ বিভিন্ন পুরোনো তৈজসপত্রের অবশিষ্টাংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। “জুতা দিয়ে মারধর! ভিডিও ভাইরাল, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা| E Bangla 71”
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সুযোগ নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দিনের বেলাতেই খননকাজ চালাচ্ছে। তারা মাটি তুলে পাশের পানিতে ধুয়ে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করছে। তাদের হাতে স্বর্ণালংকার, তামা-রুপার মুদ্রা ও পাথরের তৈরি বিভিন্ন পুরোনো জিনিসপত্র দেখা গেছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
জানা যায়, একসময় এ জমিদার পরিবার ফরিদপুরসহ ২২টি পরগনার অধিপতি ছিল। যেখানে খনন চলছে, সেটি ছিল জমিদার বাড়ির নারীদের ব্যবহৃত স্নানঘাট এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের স্থান।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৭শ শতকের গোড়ায় সাহা পরিবার লবণ ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে। একসময় প্রায় ৫০ একর জমির ওপর বিস্তৃত এ জমিদার বাড়িতে বাগানবাড়ি, পুকুর, পূজামণ্ডপ ও একাধিক দালান ছিল। বর্তমানে এর বড় অংশ দখল হয়ে গেলেও অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার অভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও মূল্যবান কাঠামো লুট হচ্ছে। এমনকি রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও অপরাধীরা সক্রিয়।
সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, বিষয়টি জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
আরও সংবাদ:
শিক্ষিকাকে জুতাপেটা! রাজশাহীতে বিএনপি নেতা বহিষ্কার | ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড়