বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ব্রেকিং
৫৭৭ বার দেখা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রায়শ্রী এলাকায় মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), পিতা শাহিন ড্রাইভার, সাং বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও); জুমন মিয়া (২৬), পিতা মৃত সুন্দর মিয়া, সাং নাগরা/বালিয়াকান্দি, ৮ নম্বর কনকপুর ইউনিয়ন; নজরুল ইসলাম (২৬), পিতা বুদু মিয়া, সাং সাবিয়া, ৭ নম্বর চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন; রাহেল মিয়া (২৩), পিতা আর রউফ, সাং পশ্চিম মোস্তফাপুর এবং সম্রাট মিয়া (২৮), পিতা আরব আলী, সাং বাহারমর্দন। তাঁদের সবার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. শহীদ মিয়া কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত পিকআপটির গতিরোধ করে। পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া (৪২) মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ করলে মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ২৪, তারিখ ১৯ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া খালি পিকআপটি উদ্ধার করে।

এরপর গত ১ নভেম্বর সদর মডেল থানা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকার মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দলের অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম, রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়াকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময়ে গাড়ি, গরু-মহিষসহ অন্যান্য মালামাল লুট করত। ঘটনার দিন জুমনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তিনটি মোটরসাইকেলে মহিষবাহী পিকআপটির পিছু নেন। পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামিয়ে চালক ও মালিককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নেন।

পরে মহিষগুলো বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে রাখা হয়। পরদিন সেগুলো সিলেটে নিয়ে বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নেতৃত্বে বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানে সদর মডেল থানার এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই আশরাফুল আলম চৌধুরী, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ ও এএসআই রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।

এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

Editing Section

এডমিন

এই লেখকের আরও সংবাদ ও আপডেট দেখতে প্রোফাইল ভিজিট করুন।

লেখকের সব সংবাদ দেখুন